নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুকুর ও ডোবার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এসব ঘটনায় তিন পরিবারের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সর্বশেষ গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভরতপুর এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে হাসান নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত হাসান ওই এলাকার আব্দুল হাকিম ও জিয়াসমিন দম্পতির চতুর্থ সন্তান।
এর আগে বড়াইগ্রামে বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে নাইম হাওলাদার নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাইম ওই এলাকার এনামুল হাওলাদারের বড় ছেলে।
এছাড়া ১৫ই আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে তাহসিন আহমেদ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তাহসিন উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া মহল্লার মজিবুর রহমানের ছেলে। সে বনপাড়া সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পরপর এমন তিনটি ঘটনায় বড়াইগ্রামে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর সরকারী হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও কনসালটেন্ট সার্জন ডা.জাহিদুর রহমান জানান, এ যাবৎ আমার কাছে পানিতে ডোবা অনেক শিশু বাচ্চাকে আনা হয়েছে, তবে তার অধিকাংশই দেখেছি মৃত্যু নিশ্চিত। তবে যেগুলো জীবিত আসে তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ানোর চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনা থাকে অধিকাংশের।
এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জনমনে সচেতনতার অভাবে অনেক সময় এমন দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি বিভিন্ন মহলে মেসেজ দিয়েছি। আশা করি, মানুষজন সচেতন ও সজাগ হবে।