আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠানো, কুপ্রস্তাব ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা ওরফে সোহেলের বিরুদ্ধে করা তদন্তে অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তিন মাসের ছুটির আবেদন করেছেন ওই শিক্ষক। তবে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ছুটি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তিনি ১২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
গত ১২ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহঃ শাহনুর জামান স্বাক্ষরিত স্মারকের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুদ্দোহা ওরফে সোহেলের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ছুটি দেওয়ার বিষয়ে আমার দপ্তরের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক প্রথমে তিনদিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। পরে আমার মাধ্যমে তিন মাসের ছুটির জন্য ডিজি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনটি এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়নি। ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার বেতন না দেওয়ার বিষয়ে ইউএনও মহোদয় আমাকে বলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহঃ শাহনুর জামান বলেন, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটি নিতে পারবেন না। বর্তমানে তার বেতন না দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।