superadmin
প্রকাশ : May 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চলনবিলে শ্রমিক সংকট ॥ ধান কাটতে বাড়তি খরচ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : চলনবিল এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সাম্প্রতিক ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে শত শত বিঘা জমির পাকা ধান নুয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে জমিতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে অধিক মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
তাড়াশ উপজেলার জাহাঙ্গীরগাঁতি এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ চলতি মৌসুমে ১২ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছেন। কিন্তু কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে তার প্রায় ৬০ শতাংশ জমির পাকা ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আব্দুস সামাদ জানান, ‘চারদিন ধরে শ্রমিক খুঁজছি, কিন্তু কেউ নুয়ে পড়া ভেজা ধান কাটতে রাজি হচ্ছে না। যারা রাজি হচ্ছে তারা বিঘাপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা দাবি করছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।’
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বছর এ অঞ্চলে ধান কাটার স্বাভাবিক মজুরি ছিল বিঘাপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এবার তা বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। নুয়ে পড়া ধান কাটতে আরও বেশি পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যশস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের ১০টি উপজেলায় এ বছর প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে এবং কাটার উপযোগী হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে নিচু জমির প্রায় ৬০ শতাংশ ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় এসব ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাড়াশের সেরাজপুর এলাকার কৃষক শফিউল হক বাবলু বলেন, ‘জমিতে ধান নুয়ে পড়েছে, আবার পুরোপুরি পাকেওনি। এখন কাটতে পারছি না, আবার অপেক্ষা করলে পচে যাবে। এতে অর্ধেক ফসলও ঘরে তুলতে পারব না।’ কালীদাসনীলি গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, চলনবিল এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকের বড় অংশ আসে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে। তবে বর্তমানে বিকল্প কর্মসংস্থান বেড়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক আর ধান কাটার মতো কষ্টসাধ্য কাজে আসছেন না। তাদের অনেকেই এখন অটোরিকশা, ভ্যান বা অন্যান্য কাজে বেশি আয় করছেন।’
এদিকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার খরচও বেড়েছে। হারভেস্টার দিয়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটতে গত বছর যেখানে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা লাগত, সেখানে এবার ৭ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। তবে জমিতে পানি থাকলে হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব না। দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসন না হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ধান কাটার ব্যবস্থা না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। এতে ধান উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
ধরইল এলাকার কৃষক অশোক দাস বলেন, ‘সার, কীটনাশক, শ্রমিক- সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এত খরচ করে ধান চাষ করে অনেক সময় উৎপাদন খরচই ওঠে না।’ 
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, ‘এ বছর ধান কাটার খরচ বেড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি- যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে শুরু হয়েছে বোরো ধানকাটা ॥ জমজমাট কৃষি শ্রমিকের হা

1

চার দিন ধরে নিখোঁজ যুবকের পোড়া লাশ উদ্ধার, আটক ৩

2

তথ্যমন্ত্রীর সাথে মিশরের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতে যৌথ মিডিয়া ফো

3

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে একের পর এক ‘ভাঙন’ এনসিপিতে

4

বগুড়ায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল পরিদর্শন

5

কুড়িগ্রামে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

6

মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইনে সরকারি কর্মকর্তা, মুহূর্তেই প

7

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

8

সকল বাবা-মায়ের প্রতি সতর্কবাণী নিজের বাচ্চাটার দিকে নজর দিন

9

নীলফামারী জেলা প্রশাসকের শীতবস্ত্র বিতরণ

10

রাজশাহীর পদ্মায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২

11

তিন শ্রেণির নাগরিক আগে পাবেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’: সমাজকল্যাণমন্

12

তফসিলের আগেই রাসিকে ভোটের হাওয়া ॥ জামায়াতের একক, বিএনপির একা

13

গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ॥ দোষীদের

14

মাদুরোকে অপসারণ ও ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ: আন্তর্জাতিক আইন ও য

15

সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা

16

সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না -এমপি ফজলুল হক

17

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা : জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

18

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

19

বাজারে স্বস্তি সরবরাহ বাড়ায় ঢাকায় কমছে নতুন পেঁয়াজের দাম

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন