superadmin
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বৃক্ষঘেরা রাবি ক্যাম্পাসে বিরল বামুন শালিকের অবাধ বিচরণ

রাজশাহী প্রতিনিধি : ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে ব্যস্ত এক ছোট্ট পাখি। ঠোঁট দিয়ে মাটি থেকে পোকামাকড় কুড়িয়ে খাচ্ছে। দূর থেকে সাধারণ শালিক মনে হলেও একটু ভালো করে তাকালেই চোখে পড়ে এর স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। কালো ঝুঁটি, ধূসর-সাদাটে দেহ আর চঞ্চল চলাফেরা-এ যেন প্রকৃতির এক নীরব সৌন্দর্য। এটি বামুন শালিক, যা শঙ্খ শালিক নামেও পরিচিত।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রমেই কমে আসা এই পাখির দেখা মিলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে প্রায় সারা বছরই।
পাখি গবেষকদের মতে, নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাদ্য, বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা এবং পুরোনো বৃক্ষরাজির কারণে ক্যাম্পাসটি বামুন শালিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
দেশে ভাতশালিক, ঝুঁটিশালিক, গোশালিক কিংবা কাঠশালিক সহজেই চোখে পড়লেও বামুন শালিক তুলনামূলক বিরল। তবে রাবি ক্যাম্পাসের খোলা মাঠ, তৃণভূমি, জলাশয়ের আশপাশ ও গাছপালায় নিয়মিত এদের বিচরণ দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রীদের কাছেও পাখিটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
বামুন শালিকের বৈজ্ঞানিক নাম Sturnia malabarica। ইংরেজি নাম Chestnut-tailed Starling। আকারে প্রায় ২১ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাখির মাথা চকচকে কালো এবং ঘাড়ের পেছনে বিস্তৃত কালো ঝুঁটি এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকম।
খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে বামুন শালিক সর্বভুক। পোকামাকড়, ফল, ফুলের মধু, শস্যদানা ও বিভিন্ন ছোট অমেরুদন্ডী প্রাণী খেয়ে থাকে। মাটিতে খাবার সংগ্রহ করলেও বিশ্রাম ও নিরাপত্তার জন্য উঁচু গাছেই বেশি অবস্থান করে। অন্য শালিকের তুলনায় এদের ওড়ার গতি দ্রুত এবং বিভিন্ন পাখির ডাক অনুকরণ করার ক্ষমতাও রয়েছে।
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দেশের অনেক অঞ্চলে বামুন শালিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (IUCN) বৈশ্বিক লাল তালিকায় প্রজাতিটি বর্তমানে “Least Concern” (ন্যূনতম উদ্বেগ) শ্রেণিতে রয়েছে। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে এর আবাসস্থল সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতিবিদদের মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রই নয়, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শতবর্ষী বৃক্ষ, বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা ও অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশের কারণে এখানে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পাখির নিরাপদ আবাস গড়ে উঠেছে। বামুন শালিকও তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার

1

বগুড়ায় সরকারি ভান্ডারী মহিলা কলেজের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন

2

চৌহালীতে নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্স

3

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

4

অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয় অ্যাপস

5

মাদারীপুরে হামে শিশুর মৃত্যু: জেলায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক, হাসপাতালে

6

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে তামাক চাষ ; মাটির উর্বরতা-পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

7

চট্টগ্রামে সড়কে দুই দিন পড়ে ছিল কোটি টাকার পরিত্যক্ত মার্সিড

8

মুন্সীগঞ্জে প্রাচীন ও দুর্লভ কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তিসহ আট

9

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

10

জ্বালানিসংকটে গাজার আল-আওদা হাসপাতালে সেবা স্থগিত; ধুঁকছে উপ

11

রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের নবনির্বাচিত কমি

12

ফিফা সভাপতিকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্র

13

দ. কোরিয়ায় চীন-মার্কিন বাণিজ্য বৈঠক শুরু

14

আটকা পড়া বাংলাদেশিদের আনতে দুবাই যাচ্ছে বিশেষ ফ্লাইট

15

সোনার দামে সুখবর

16

ইরান ৫০টি উত্তর কোরিয়ার সমান শক্তিশালী: নতুন হুশিয়ারি নেতানি

17

রাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভ

18

ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে এতিমদের খাবার পরিবেশন

19

প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতি

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন