superadmin
প্রকাশ : Apr 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে তামাক চাষ ; মাটির উর্বরতা-পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : বেশি লাভের আশায় সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় এ বছর প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এতে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা করছে কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তামাক চাষাবাদ বন্ধে দেশে কোনো আইন হয়নি। ফলে জোর করে চাষ বন্ধ করার সুযোগ নেই। তবে তারা কৃষকদের বুঝিয়ে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মনজুরে মাওলা বলেন, জেলার চরাঞ্চলে তামাক চাষের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। গত বছর দুই উপেজেলায় চাষ হলেও তা এবার পাঁচ উপজেলায় ছড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, চলতি বছর সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলসহ প্রায় ১৪৩ হেক্টরে জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এটি বন্ধে আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সবচেয়ে বেশি তামাক চাষ হচ্ছে বেলকুচিতে ১২২ হেক্টরে। এর বাইরে শাহজাদপুর ১২ হেক্টর, সদরে ৬ হেক্টর, চৌহালীতে ৩ হেক্টর এবং কামারখন্দ উপজেলায় দশমিক ২৮ হেক্টরে তামাক চাষ হচ্ছে। আর গত বছর চাষ হয়েছিল ২৫ হেক্টর জমিতে, যার মধ্যে বেলকুচিতে ২২ হেক্টর এবং শাহজাদপুরে ৩ হেক্টর।
তামাক চাষিরা বলছেন, ধান বা খাদ্যশস্যের মতো তামাক চাষে লোকসানের কোনো ঝুঁকি নেই। বরং লাভজনক দামে তামাক কেনার জন্য একটি শ্রেণি অপেক্ষায় থাকে। তাই সহজেই তামাক বিক্রি হয়ে যায়।
কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে পাকা সড়কের পাশে প্রায় তিন বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন বানিয়াগাতি গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে কৃষক শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভের আশায় প্রথমবারের মত তামাক চাষ করেছি।
একই এলাকার স্থানীয় কৃষক সাদেক আলী ও ইমান আলী বলেন, এই জমিতে আগে প্রচুর পরিমাণে ধান, সরিষা ও ভূট্টার চাষ হতো।
বেশি লাভের আশায় শহিদুল ইসলাম ফসলি জমিতে তামাক চাষ করেছেন। তবে জমিতে বেশি পরিমাণে সার ও পানি দেওয়ায় তামাকের ফলন ভালো হয়নি। ফলে আগামীতে আর তামাক চাষ করবেন না বলে জানিয়েছেন শহীদুল।
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তামাক চাষে পরিবেশের ক্ষতি হয়, জমির মাটির উর্বরতা কমে যায়। তাই আমরা কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করে থাকি। তবে এটি নিষিদ্ধ কোনো ফসল নয়, এটি চাষাবাদ বন্ধে দেশে এখনো কোনো আইন হয়নি। ফলে জোর করে বন্ধ করতে পারি না।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, তামাক চাষে মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। এটি বন্ধে কোনো আইন না থাকায় কৃষকদের বুঝিয়ে তামাক চাষ বন্ধ করা হয়ে থাকে। তারপরও কিছু মানুষ এটি চাষ করে, কারণ একটি পক্ষ এটি চাষে কৃষকদের নানা সুবিধা দেয় এবং তামাক কিনে নেওয়ার জন্য বসে থাকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১৪

1

ডান কাতে ঘুমানোর বিস্ময়কর উপকারিতা: সুন্নাহ পালনেই মিলবে শার

2

কালীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও

3

ঘরে বসেই মিলবে ঋণ: জামানত ছাড়াই মুহূর্তের ক্লিকে মিলছে টাকা

4

কালীগঞ্জে বাল্যবিয়ের অপরাধে কনের পিতাকে ছয় মাসের কারাদন্ড

5

বাংলাদেশিদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ: ফিঙ্গারপ্রিন

6

চট্টগ্রামে ট্রেনে পাথরের আঘাতে আহত এক যাত্রী, বাঁচলেন আরেকজন

7

ফরিদপুরে সুকৌশলে দখল হচ্ছে সড়ক ও জনপথের জায়গা

8

মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিল সরকার

9

সিরাজগঞ্জে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে হাটিকুমরুল ই

10

জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা হলো না ॥ বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তা

11

বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে মাদকবিরোধী কর্মসূচি প

12

চৌহালীতে দরিদ্রদের মাঝে ভিজেএফ এর চাল বিতরণ

13

শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে কেন?

14

বাবা–ছেলের জুটিতে ৫৯০ রান, একজনের ব্যাটে ৪২ ছক্কায় ৪০২

15

নাম ও বয়স সংশোধনে দালালচক্র থেকে সাবধান : ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

16

দিল্লিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বৈষম্যবিরোধী

17

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যেকোনো দিন

18

সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী: মীর হেলাল

19

মুন্সীগঞ্জে প্রাচীন ও দুর্লভ কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তিসহ আট

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন