superadmin
প্রকাশ : Jul 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর সিএমএম আদালতের নিজস্ব ভবন না থাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চলছে বিচারিক কার্যক্রম

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীর সিএমএম আদালত প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৯ বছর পার হলেও নিজস্ব ভবন না থাকায় আদালত পাড়ার বিভিন্ন ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। ফলে আদালতের এজলাস, প্রশাসনিক শাখা, নথি সংরক্ষণাগার ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বিভিন্ন ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে নির্বাহী বিভাগের অধীনে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষ এবং নতুন ভবনের দুটি কক্ষ আদালত পরিচালনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তখন মাত্র চারটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি হলে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়ে সিএমএম আদালতের কার্যক্রম বিভিন্ন ভবনে স্থানান্তরিত হতে থাকে। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরে সাতটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পার হলেও আজও আদালতটির জন্য আলাদা কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে জেলা প্রশাসকের দেওয়া তিনটি কক্ষের মধ্যে দুটি ব্যবহৃত হলেও একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অন্যান্য আদালতের এজলাস, খাসকামরা, নেজারত শাখা, নকল শাখা, রেকর্ড রুম, লাইব্রেরি, ডেসপ্যাচ শাখা, হিসাব শাখা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় আদালতপাড়ার বিভিন্ন ভবনে ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও একই কক্ষে ভাগাভাগি করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও জায়গার সংকটের কারনে দাপ্তরিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে জেলা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর দায়রা জজ আদালত ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত অবস্থিত। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রয়েছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের অষ্টম তলায়। এমএম-২ আদালতের এজলাস ও খাসকামরা রয়েছে একটি টিনশেড ভবনে। একই ভবনে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়, নেজারত শাখা, লাইব্রেরি, নকল শাখা, হিসাব শাখা ও জুডিশিয়াল মুন্সিখানার কার্যক্রম চলছে।
অন্যদিকে আদালতের পুরোনো ভবনের নিচতলায় এমএম-১ ও এমএম-৫ আদালতের এজলাস রয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এমএম-৩ ও এমএম-৪ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সেই ভবনের একটি কক্ষে রেকর্ড রুম রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জায়গার অভাবে একজন পেসকারকে একটি পরিত্যক্ত বাথরুমে বসেই সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
আদালত সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মর্যাদাহানিকর।
আদালত সূত্র জানায়, বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রায় ২০ হাজার এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২১ হাজার ৪২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন মামলা যুক্ত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল বাড়েনি। বড় বড় মামলার নিষ্পত্তি হলেও সেসব নথি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত রেকর্ড রুম না থাকায় নথি ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে জনবল সংকট বিচার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রোজিনা খান, মামলা নম্বর- ১৫২০ সি/২৪ (বোয়ালিয়া)। তিনি একটি মামলার বাদী। নির্ধারিত তারিখে সাক্ষ্য দিতে আদালতে এসে আইনজীবীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেন। পরে তাকে এমএম-৫ আদালতের সামনে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু আদালতটি কোথায়, তা খুঁজে পেতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিভিন্ন মানুষের কাছে জানতে জানতে অবশেষে আদালত খুঁজে পান।
তিনি বলেন, একটি আদালত খুঁজে পেতেই অনেক সময় নষ্ট হয়। বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটি চরম ভোগান্তি।
আরেক ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল আলম@ আলম, মামলা নম্বর- জিআর ২৩৩/২১ (দামকুড়া) বলেন, অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকলে আদালতের কার্যক্রম অন্য এজলাসে নেওয়া হয়। এতে আমরা সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাই। কোন আদালতে যেতে হবে সেটিই বুঝতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নিজস্ব ভবন আছে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেরও নিজস্ব ভবন রয়েছে। কিন্তু চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোনো ভবন নেই। দ্রুত একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলে বিচারপ্রার্থীসহ সবাই উপকৃত হবেন।
এ বিষয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। পরে মহানগর দায়রা জজের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি আদালতের অবকাঠামোগত সংকট, জনবল ঘাটতি ও নানা সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। তবে তিনি তার বক্তব্য সরাসরি উদ্ধৃত বা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এদিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে সুশীল ও সচেতন নাগরিকরা বিচারসেবাকে আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন।
বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমানো, নথি সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সেবাগ্রহীতারা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস: বিক্রি নেমেছে শূন্যে

1

দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

2

আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযান, নিহত ২৯ জন

3

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ॥ ভোগান্তিতে য

4

খাদ্য দূষণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার গভীর উদ্বেগ: কঠোর ব্যবস্থা

5

২০২৫ সালে দুর্নীতিতে ১৩তম, স্কোর বাড়লেও অবনমন এক ধাপ

6

ঈদযাত্রায় ট্রেনের দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি চলছে

7

আজ থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

8

কালীগঞ্জে হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

9

দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থ

10

খুলশীতে হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরুমার মরদেহ উদ্ধার ; গলায় দাগ ঘি

11

দুর্গাপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ ॥ ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যু

12

সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

13

নবীনগরে বি স্ট্রং প্রকল্পের বীজ প্রযুক্তি গ্রামে মাঠ দিবস

14

ফুলবাড়ীতে খেলার মাঠে কাঁচের টুকরো ছিটানোর অভিযোগে মানববন্ধন

15

রাজশাহীতে খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর জন্মবার্ষিকী উপলক

16

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: আটক অ

17

বলিউডে কি ফিরছে সেই পুরোনো পুরুষতন্ত্র? ব্লকবাস্টার সিনেমার

18

চৌহালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসের উদ্বোধন

19

আত্মহননের বদলে আত্মোপলব্ধির হাইকু

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন