রাজশাহী ব্যুরো : তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতিতে রাজশাহীতে বাড়ছে লোডশেডিং ও জনভোগান্তি। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে-এমন আশঙ্কায় জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ বিষয়ে গত বুধবার প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এই ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে রাজশাহী নগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ২৮ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। কখনো চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তবে নগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে রাজশাহী নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।