superadmin
প্রকাশ : Apr 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুঃখ-সুখেই জীবন কাটে সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা চরের ২৬টি ইউনিয়নের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের জীবন কাটে দুঃখ-সুখের মধ্য দিয়ে।
জেলার কাজিপুর চৌহালী বেলকুচি শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ প্রকৃতির সাথে লড়াই করেই বেঁচে আছে। প্রতি বছর যমুনার প্রবল ভাঙন, ভূমিক্ষয়, বন্যা, ঝড়, ক্ষুধা, বঞ্চনা আর দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত এসব মানুষের জীবন কাটে নিদারুন কষ্টে। যমুনার করাল গ্রাস থেকে বাঁচার জন্য তারা ছুটে যায় এক চর থেকে অন্য চরে।
জেলার কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, তেকানী, খাসরাজবাড়ি, মনসুরনগর, নাটুয়াপাড়া, চৌহালী উপজেলার ঘোড়জান, স্থল, সাদিয়া চাঁদপুর, খাসকাউলিয়া, ওমারপুর, শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর, রুপবাটি, সোনাতনী, পোরজনা, বেলকুচি উপজেলার বরধুল এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা, রতনকান্দি, মেছড়া, কাওখোলা ও কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের দেড় শতাধিক চরের অধিবাসী নদী ভাঙন, বন্যা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই বেঁচে আছে।
সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের আবাদুর রাজ্জাক জানান, তার ৬০ বছরের জীবনে চারবার নদী ভাঙন হয়েছে। আজ সব হারিয়ে তাদের পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বাপ-দাদার প্রায় ৫০ বিঘা জমি ছিল। বাড়িতে ৪-৫ জন বছর জুড়ে কামলা থাকত, কিন্তু যমুনা তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আজ তারা নিঃস্ব। অধিকাংশ চরেই তেমন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার হার অনেক কম। কোনো কোনো চরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা থাকলেও অধিকাংশ চরে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও চরবাসী অবহেলিত। প্রতিটি চরে চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় তারা আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া চরাঞ্চলে বাল্যবিয়ের সংখ্যাও বেশি। তবে এতকিছুর পরও প্রতি বছর বন্যায় জমিতে পলি পড়ায় জমিগুলো উর্বর শক্তি বেড়ে যাওয়ায় এখানে কম পরিশ্রম ও কম খরচে প্রচুর পরিমাণে মরিচ, ভুট্টা, বাদাম, তিল, তিসি, কাউন, পাট, সরিষা, ধানসহ নানা ধরণের শাক-সবজি জন্মে। এছাড়া গবাদি পশুর খামার করে অনেক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলার  সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল  বলেন,  চরের মানুষের বেশি কষ্ট হয় শুষ্ক মৌসুমে। কারণ এসময় পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। তবে বর্ষায় পানি থাকায় তাদের তেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। এছাড়া বিভিন্ন চরে মাটির রাস্তা, পাকা রাস্তা ও হেরিংবন রাস্তা করা হয়েছে। প্রাইমারি স্কুল, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ করা হয়েছে। কৃষকেরা আবাদের পাশাপাশি গবাদি খামার করে বেশ লাববান হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল ভালো দামে বিক্রি করতে পারছে। এতে চরের অর্থনীতি দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চীনের পরিকল্পনায় কাজ হলে মার্কিন এফ–৩৫ গুলি ছাড়াই থামিয়ে দিত

1

চট্টগ্রাম নগরীতে খেলার ছলে শিশুদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শেখাচ্

2

ঝালকাঠিতে নদী ভাঙনে বিলীন সড়ক, ৬ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ॥

3

ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশে আর রাজনীতির সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বর

4

সোনারগাঁয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

5

৫০তম বিসিএস: আবেদন কমে তিন লাখের নিচে, এক বছরে নিয়োগ সম্পন্ন

6

ফরিদপুরে সুকৌশলে দখল হচ্ছে সড়ক ও জনপথের জায়গা

7

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সচ্ছল পরিবার: ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গ

8

চারটি কফিন: চিরবিদায়ের শোকে পাথর রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ; ছোট ভ

9

আটকা পড়া বাংলাদেশিদের আনতে দুবাই যাচ্ছে বিশেষ ফ্লাইট

10

শিশুর হাম: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

11

সাবেক আইজিপি বেনজিরকে ফেরাতে নথিপত্র পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট

12

মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলে ইরানের ৫ দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

13

বোরহানউদ্দিনে দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সরদার গ্রেফতার

14

লৌহজংয়ে চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম ॥ ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

15

সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা

16

১৩ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা ॥ সতর্ক সংকেত জারি

17

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন: দাম কমার শীর্ষে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ

18

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের যুদ্ধ

19

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না : মির্জা ফখর

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন