নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষ অনলাইন সেবায় যুক্ত হচ্ছেন। ডিজিটাল সেবায় প্রবেশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পৃথক তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার এবং ইন্টারনেট ও মোবাইল গ্রাহক- উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ ঘটছে। বিবিএসের ‘আইসিটি ব্যবহার ও প্রয়োগ জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুনের ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। এ সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বেড়েছে স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও। এক বছরে তা ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে রয়েছে। দেশের ৯৯ শতাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। এক বছর আগে এ হার ছিল ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ।
বিটিআরসির তথ্যেও মোবাইল নির্ভর ডিজিটাল সংযোগের বিস্তার দেখা গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়ে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতাভুক্ত জনসংখ্যার হার ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
আগস্টে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়ে ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। জানুয়ারি থেকে এ সংখ্যা বেড়েছে ৮০ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) সংযোগের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১ কোটি ৫৪ লাখে দাঁড়িয়েছে।
মোবাইল নেটওয়ার্কেও থ্রিজি থেকে ফোরজিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার। আগস্টে তা বেড়ে ১২ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার হয়েছে।
বিপরীতে, থ্রিজি গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ থেকে কমে ১ কোটি ৫ লাখে নেমেছে। থ্রিজি ও ফোরজি ব্যবহারকারীদের হিসাবে মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে।
দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ। আগস্টে তা বেড়ে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৫২ লাখ ৯০ হাজার। একই সময়ে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সংযোগের আওতাসহ সামগ্রিক টেলিঘনত্ব ১০৫ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০৮ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে।
তবে বিবিএসের জরিপে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার ও নিজস্ব ডিভাইসের মালিকানার মধ্যে ব্যবধান দেখা গেছে। দেশে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের। এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অন্যের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। ডিজিটাল সংযোগ বাড়লেও কম্পিউটার ব্যবহারে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ব্যক্তিপর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারের হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, কম্পিউটার রয়েছে এমন পরিবারের হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
এদিকে, ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের হার কমেছে। এক বছরে এ হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
দেশে ল্যান্ডফোনের ব্যবহারও কমছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে ল্যান্ডফোন ছিল। এক বছর আগে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।
বিবিএস ‘ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি সুবিধা ও ব্যবহার পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করছে। কম্পিউটার সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জরিপের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতি প্রান্তিকে ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি এলাকা থেকে ২৪টি করে পরিবার নির্বাচন করা হয়। এ হিসাবে প্রতি প্রান্তিকে ৬১ হাজার ৬৩২টি এবং বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়।
২০২৫-২৬ সালের জরিপটি এ ধারার দ্বিতীয় পর্যায়। এর আগে ২০২৪-২৫ সালে প্রথম পর্যায়ের জরিপ পরিচালিত হয়। আইসিটি খাতে নীতিনির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করাই এ জরিপের উদ্দেশ্য। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পর্যবেক্ষণের জন্য এতে ২২টি সূচক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।