superadmin
প্রকাশ : Sep 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার রোধে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে মাঠে রাজশাহী সিটি করপোরেশন

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী ব্যুরো : দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজশাহী মহানগরীতেও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেন, নালা, সড়কের পাশ, ঝোপঝাড় ও পানি জমে থাকার সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশের পর রাজশাহীতেও এ কার্যক্রমে গতি এসেছে। গত রোববার সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের এ কাজে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। শুধু ৬ সেপ্টেম্বরের আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন চারজন। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১১২ জন।
রাজশাহী অঞ্চলের পরিস্থিতিও উদ্বেগের। আগস্ট মাসে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এবং তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আট জেলায় ১ হাজার ৩৩৯ জন এবং তিনটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহী মহানগরীতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় ড্রেন ও নালা পরিষ্কার, জমে থাকা কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, সড়কের পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনসহ সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। মশার প্রজননের উপযোগী স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, শুধু রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার করেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। নগরবাসীকেও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ভাঙা ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিকে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। ফলে শুধু নগরীর প্রধান সড়ক বা ড্রেন পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যক্তিগত স্থাপনার ভেতরে জমে থাকা পানিও নিয়মিত পরীক্ষা ও অপসারণ করতে হবে। চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৬ সেপ্টেম্বর একদিনে দেশে ১ হাজার ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চলতি বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বর মাসে অনুকূল আবহাওয়া ও এডিস মশার বিস্তারের কারণে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্রে ওই রোগীর বয়স ছিল ৩৯ বছর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন, ওষুধ প্রয়োগ বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি ‘নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা’ সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। বিশেষ করে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির ভেতর ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করা, জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের জনবল দিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ যখন নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী, তখন রাজশাহীতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারছে- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরীর অদৃশ্য ও ছোট ছোট পানি জমার উৎসগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফের

1

স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, নেই রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেল

2

শিক্ষাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : শিক্ষামন্ত্রী

3

বনফুল গ্রুপের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

4

মধুখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

5

বগুড়া জেলায় শ্রেষ্ঠ রোভারদল হিসেবে সৈয়দ আহম্মদ কলেজকে পুরস্ক

6

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥ হুমকিতে

7

বুধবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত, নতুন তারিখ ৫ জানুয়া

8

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাশে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ উড়িয়ে দেয়া

9

বাংলাদেশিদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ: ফিঙ্গারপ্রিন

10

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের যুদ্ধ

11

দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন

12

সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

13

ফরিদপুর জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা নবনিযুক্ত প্র

14

‘মনটা তরুণ থাকলেই হয়, বয়স বড় বিষয় নয়’

15

নির্বাচিত সংসদই দেশকে এগিয়ে নেবে : স্পিকার

16

রামিসা হত্যাকান্ডের চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত

17

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: ৪ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধ

18

রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি

19

ঈদযাত্রায় ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন, ৩ মার্চ থেকে মিলবে অগ্রিম টিকি

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন