superadmin
প্রকাশ : Jan 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাভা'রে ভয়ঙ্কর 'সিরিয়াল কিলার'নাম সাইকো স'ম্রাট।

সাভা'রে ভয়ঙ্কর 'সিরিয়াল কিলার'নাম সাইকো স'ম্রাট।


নিজস্ব প্রতিবেদন 

 ইতিমধ্যে সে গত ৭ মাসে ৬টি খুনের দায় স্বীকার করেছে। 

রীতিমতো গাঁ শিউরে উঠা এক ক্যারেক্টার। আমার মনে হয় সং্খ্যাটা আরও বেশী হতে পারে। ওর অতীত জীবন ঘাটলে বুঝা যাবে। 

একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার ভবনেই নিজের ছোট্ট সংসারে ঘরে তুলেছিলো। আর এই সেন্টারে এতগুলো লাশের সন্ধান পাওয়া গেলো। অথচ ঐ কেউ এই লোকটিকে সন্দেহ করলো না। কারণ সে ভবঘুরে পাগল। 

গ্রেফতারের দুদিন আগেও রাতে সম্ভবত কোন এক ভ্লগার/পুলিশ ঐ পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকে ভিডিও করতে থাকে। সেন্টারের একটি রুমে কিশোরী এক পাগল মেয়েকে ভাঙ্গা সোফায় ঘুমাতে দেখা যায়। মেয়েটি নিজেকে সাইকো সম্রাটের বোন বলে পরিচয় দেয়। 

এমন সময় সাইকো সম্রাট আসে। কথাবার্তা এত সাবলীল, ভদ্র, মার্জিত। আইমিন, ঐ ভ্লগার যদি বুঝতে পারতো এই লোক একজন সিরিয়াল কিলার। তারা এই লোকের সাথে ঠাট্টা তামাশা করার সাহস করতো বলে মনে হয় না।  

লোকটি কিলারকে চার্জ করে কিলার বললো, এই মেয়ে নাকি তোমার বউ? সে উত্তরে বললো, নাহ! এই মেয়েকে আমি চিনিনা। কোথা থেকে এসেছে জানিনা। তিনদিন ধরে এখানে থাকে। এখন আমি ওরে টর্চারও করতে পারি না, মারতেও পারি না। চলে যেতে বললেও যায় না। আমি আর কী করার। বাইরে থাকি, ওরে ভেতরে থাকতে দিয়ে। তবে এই মেয়েটা অসহায়। ওর বাবা মাকে খুঁজে দেওয়া দরকার।  

ভিডিও ক্লিপ দেখে মনে হবে - কতটা ভদ্র এক ভবঘুরে পাগল এই সম্রাট। যে নারীদেরকে সম্মান করে। অসহায়দের প্রতি সহানুভূতি তার মধ্যে। 

নিউজ পড়ে আমি এখনও সিওর না যে, বোন দাবী করা পাগল কিশোরীকে পরবর্তীতে হত্যা করেছে কীনা। খুব সম্ভবত মেরেই ফেলেছিলো। 

কারণ সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো ঐ ভবনে কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায়।   

সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে একটি লাশকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। পরিত্যক্ত সেই কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। নিথর সেই লাশের দুটো হাত এদিক সেদিক দুলছে। হয়তো পুড়িয়ে ফেলার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। গাঁ হিম করা সেই দৃশ্য। 

পুলিশ ততক্ষণে চিনে ফেলেছে। এই খুনি আর কেউ নয়। ভবঘুরে সাইকো সম্রাট। যাকে এলাকার সবাই চিনে।  

ভবনের একদিকে আর্মি ক্যাম্প, অন্যদিকে পুলিশ স্টেশন। অথচ একই স্থানে ৭ মাসে ৬টি খুন হওয়ার পর প্রশাসনের হাতে যখন কেউ গ্রেফতার হয়। তখন সত্যিই এটি মেনে নেওয়া যায় না। 

হয়তো খুন হওয়া ব্যক্তিরা ভবঘুরে, ভিক্ষুক শ্রেণীর ছিলো। যার কারণে তাদের হত্যার বিচারের দাবীতে তেমন কেউই এগিয়ে আসেনি। সেভাবে আমলেও নেয়নি। 

তবে এটাও সত্যি যে - 
আপনি সেসকল খুনিদেরকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন। যাদের খুনের জন্য একটি বিশেষ কারণ থাকে। যেমন রাজনৈতিক কারণ, প্রেম- ভালোবাসা, পরকীয়া, কিডন্যাপ ইত্যাদি...।। 

কিন্তু একজন সিরিয়াল কিলার যার খুনের কোন বিশেষ মোটিভ নেই। মানুষকে মারতে ভালো লাগে বলেই খুন খারাবি করে বেড়ায়। এরা আপনার আশেপাশেই ঘুরে বেড়াবে অথচ এদেরকে আপনি চিহ্নিত হিমশিম খাবেন। 
 
ইতিহাসে এমনও সিরিয়াল কিলার আছে। যারা কয়েক ডজন মানুষ মেরেছে অথচ ধরা খায়নি। আবার এমনও মানুষ আছে যারা প্রায় শত মানুষ মেরেছে। ৩০-৪০ বছর স্বাভাবিক জীবন যাপন করার পর আধুনিক প্রযুক্তির কারণে গ্রেফতার হয়েছে। 

এবার একটা গুরুত্বপূর্ণ কথায় আসি। আমাদের সমাজে রাস্তাঘাটে বহু ভবঘুরে, পাগল, সন্ন্যাসী টাইপের মানুষ আছে। এদেরকে পীর, মুর্শিদ বানিয়ে পূজো করে ফেলি। এদেরকে সন্দেহের চোখে দেখলেও কেউ বলে বসে, 'এদেরকে কিছু বলতে নেই। এরা নাকি আধ্যাত্মিক শক্তির লোক। কেউ কেউ বলে, ফেরেশতা নাকি এদের বেশ ধরে চলাচল করে।'  

যারা এসব বলে, ফাক ইউ ম্যান! এদের একেকটার অতীত ঘাটলে দেখা যাবে বড় বড় ক্রাইম ঘটিয়েছে, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এই ভং ধরে বেড়ায়। 

রসু খাঁর কথা আপনাদের মনে আছে? বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার। ১১জন নারীকে নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলো। হত্যার আগে করতো ধর্ষণ। এরপর খালে ভাসিয়ে দিতো। ওর ভিক্টিমদের প্রায় অধিকাংশই ছিলো গার্মেন্টস কর্মী। ইচ্ছে ছিলো ১০১টি খুন করার। 

১০১টি পূর্ণ হলে মাজারের সন্ন্যাস জীবন যাপনের স্বপ্ন ছিলো। তাহলে আর কেউ তাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু তার ১০১টি খুনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।  

২০০৯ সালে অত্যন্ত ঢাক ঢোল পিটিয়েই গ্রেফতার করা হয়েছিলো রসু খাঁকে। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছে। কিন্তু দেখুন আমাদের বিচার বিভাগের রসিকতা - আজ পর্যন্ত রসু খাঁকে ফাঁসিতে ঝুলায়নি। তাকে ১৭ বছর ধরে সরকারী টাকায় তিনবেলা খাওয়াচ্ছে। 

২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া ঐ শিশুটি আগামী বছর ভোটার হবে। কিন্তু রসু খাঁর ফাঁসি হবে না। কারণ আমাদের দেশে অপরাধীর বড়জোর মৃত্যুদণ্ড রায়ই দেওয়া হয়। ফাঁসি আর কার্যকর হয় না। 

বহুবার লিখেছিলাম, এই সংখ্যাটা। হয়তো আপনারা বিরক্তও হোন কিন্তু সত্যিটা এটাই। ৫০ বছরে ফাঁসি হয়েছে মাত্র প্রায় ৫০০টি। গড়ে বছরে ৫টি। মাসে খুন হয় যেখানে ৩০০টি। 

আর এভাবেই অপরাধীদেরকে রাষ্ট্র পুষে লালন পালন করে যুবক থেকে বৃদ্ধ করে। অতঃপর হয়তো ছেড়ে দেয় কিংবা জেলেই স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। 

সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাটের বয়স হয়তো ৩৫-৪০ এর মতো। হয়তো মৃত্যুদণ্ড রায়ও হবে। তবে রাষ্ট্র তাকে পুষবে। কিন্তু ফাঁসি পর্যন্ত আর গড়াবে না বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

শহরে এমন বহু পরিত্যক্ত ভবন, ফ্লাইওভারের চিপা চাপায় থাকা সুড়ঙ্গে অপরাধীরা আস্তানা বানিয়ে থাকে। রাত হলে বেরিয়ে পড়ে অপরাধ করতে। এসব প্রশাসন দেখেও দেখে না। সংস্কার করে না। নিরাপদ করে না।
যার কারণে প্রাণ হারাতে হয়। আর অপরাধীও থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর কম্পিউট

1

পত্নীতলায় বিজিবির অভিযানে ১০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্য

2

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ফজলি-বারিসহ সকল আমের দাম

3

ফরিদপুরে মাদকের কবল থেকে বাঁচতে চায় এলাকাবাসী

4

সাভারের দূষণ আজ ঢাকার দ্বিগুণের বেশি

5

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভয়াল ভাঙ্গন ॥ বিলীন দুই শতাধিক ঘরবাড়ি

6

বিএনপি নেতা আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

7

মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিল সরকার

8

নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তিনজনের মনোনয়নপ

9

গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ॥ দোষীদের

10

চট্টগ্রাম বিভাগে পেশাজীবী দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন ইকবাল

11

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বেসামরিক পদে চাকরি, পদ ১০১

12

নতুন প্রজন্মকে জাতীয় কবির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত

13

ইরানিদের প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না: আইআরজিসি

14

কালীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও

15

ফরিদপুরে মারুফ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছ

16

ফরিদপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের ৪ জনসহ

17

চৌহালীতে হেলিক্স রিকম্বিনেশন শীর্ষক কর্মসূচি পালিত

18

চৌহালীর রেহাই পুকুরিয়া আর্দশ কলেজ রাস্তার বেহাল দশা, ভোগান্ত

19

কালীগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলা, মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মা

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন