সীমান্ত রায়, নীলফামারী প্রতিনিধি : একই পদে ও একই চেয়ারে বসে আছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে! তোয়াক্কা করছেন না কাউকে। নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এর কর্মকর্তা মোঃ মছলেউদ্দীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থেকে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব প্রভাববলয়। সামান্য বকেয়া টাকার জন্যও তিনি সাধারণ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছেন বলে জানা গেছে।
খুটামারা ইউনিয়নের মোরছালিন জানান, আমার বিরুদ্ধে মাত্র ৫ হাজার টাকার জন্য মামলা করেছেন।
কাজিরহাটের শরিফা বেগম জানান, আমার বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৯শত টাকার মামলা করেছেন এই ক্ষমতাবান পিডিএফ কর্মকর্তা।
ক্ষুদ্র ঋণে দিশেহারা সাধারণ গ্রাহক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি পিডিবিএফ থেকে ৮০ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধও করেছি। অথচ বাকি সামান্য টাকার জন্য আমার নামে ২৯ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে।
শুধু ইনিই নন, এই কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক হয়রানির বিরুদ্ধে জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য ভুক্তভোগীর ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক দেখেই উগ্র আচরণ ও নাটকীয়তা শুরু করেন এই কর্মকর্তা।
এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি সরেজমিনে উক্ত কর্মকর্তার দপ্তরে যান। তবে সাংবাদিককে কোনো বক্তব্য না দিয়ে উল্টো তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন। তিনি নিজের মোবাইল ফোন বের করে সাংবাদিকদের কথোপকথন ভিডিও করতে থাকেন এবং তাদেরকে অবিলম্বে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল দিয়ে অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ধারণ করে তাকে সাংবাদিক বিরক্ত করছে বলে এক ধরণের নাটকীয় পরিবেশ তৈরি করেন।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসী হ্যাপি এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একই উপজেলায় একজন কর্মকর্তা ১২ বছর ধরে কীভাবে আছেন? সে বিষয়ে আমি মাত্র অবগত হলাম। পিডিবিএফ-এর নিয়োগ বা বদলি নীতিমালা সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। তবে সরকারি নিয়মে কোনো কর্মকর্তাকে একই অফিসে এতদিন রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।
অভিযোগের বিষয়ে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মাহবুবার রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। তবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে একই স্থানে শিকড় গেড়ে বসা এই বিতর্কিত কর্মকর্তার খুঁটির
জোর কোথায়? এখন এটাই জলঢাকাবাসীর বড় প্রশ্ন।