
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : সম্প্রতি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বুড়াগৌরঙ্গ-তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ছোট হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ইত্যাদি।
দীর্ঘ বছর ধরে নদীভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এলাকার বহু পরিবার ফসলি জমি ও ভিটামাটি হারিয়ে বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কিছু সংখ্যক পরিবার নদীভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে জীবিকার সন্ধানে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে চলে গেছে।
দশমিনা উপজেলাটি তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌড়ঙ্গ নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা নদী ভাঙ্গনের ঝুকিতে রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে দশমিনা সদর, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী এবং চরবোরহান। এই চার ইউনিয়নের প্রায় দুই ডজনাধিক গ্রামে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি দশমিনা লঞ্চঘাট এলাকার ভাঙ্গন তীব্র হওয়ায় এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন দশমিনা-গলাচিপা আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহিদ হোসেন চৌধুরী এবং পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মোঃ আহসান উল্লাহ, দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদ হাসান মৃধা।
এলাকাবাসীর ধারনা, এ ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অচিরেই দশমিনার অতি গুরুত্বপূর্ণ হাজীরহাট লঞ্চঘাট এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ছাড়াও তীব্র ভাঙ্গনের মধ্যে রয়েছে- বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চর বাঁশবাড়িয়া, চর বুথাম, চর আজমাইন, কাউনিয়া, ঢনঢনিয়া। দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজীরহাট, গোলখালী, কাঁটাখালী, চরহাদী, সৈয়দ জাফর। রনগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রনগোপালদী, আউলিয়াপুর, চরঘূর্ণী, পাতার চর। চরবোরহান ইউনিয়নের উত্তর চর শাহজালাল, দক্ষিণ চর শাহজালাল এবং চর বোরহানের দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, বিগত দশ
বছরে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ছয় শতাধিক একর কৃষিজমি, শত শত বাড়ি-ঘর ও পাকা সড়ক তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরঙ্গ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়েছে বহু পরিবার।
দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজীরহাট এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ স্বপন গাজী জানান, বছর দুয়েক আগেও হাজীরহাট বাজার থেকে নদী ছিল প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন বাজারটিতে পুরাপুরি ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অচিরেই হাজীরহাট বাজারসহ লঞ্চঘাট এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন বলেন, রনগোপালদী ইউনিয়নে প্রায় দশ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পুরোটাই নদীভাঙ্গন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদী বেড়িবাঁধের খুবই নিকটে চলে এসেছে। একাধিক জায়গায় বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন ধরেছে।
উপজেলার চরবোরহান ইউয়িনের তিন ও চার নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ও পশ্চিম চরবোরহানের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার বাজারসহ বিশাল এলাকা তেতুঁলিয়া-বুড়াগৌরঙ্গ নদীর করাল গ্রাসের মধ্যে রয়েছে।
শিক্ষক ইয়াকুব হোসেন বলেন, চরবোরহানের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সেন্টার বাজারে নদী ভাঙ্গন এখন ছুঁই ছুঁই অবস্থা। দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে চরবোরহানের সেন্টার বাজারসহ বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান মৃধা বলেন, ভাঙ্গন কবলিত
এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই, ভাঙ্গনের তীব্রতা ভয়াবহ। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, ভাঙ্গন বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, দশমিনা ও গলাচিপার কিছু এলাকা ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি আমার পক্ষ থেকে ভাঙ্গনের বিষয়টি পানিসম্পদ মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করেছি।