প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 16, 2026 ইং
চট্টগ্রামে কোকেন-কান্ডে বেরিয়ে এলো ৬৩ বিদেশির আস্তানা, গ্রেপ্তার সেই মহসিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসা ভাড়া নেওয়া এবং তাদের পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অভিযোগে মোহাম্মদ মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় হলেও তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে খুলশীর ওই ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। কয়েকদিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসিন। পরে কোকেনগুলো ফেরত এলে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ওই বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য পুলিশের নজরে আসে। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমেই তাদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি তাদের জন্য ভবনটি ভাড়া করে দেন। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে বিদেশিদের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক, কার নির্দেশে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং তার পেছনে আর কারা রয়েছে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হব।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছে পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি। ফলে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।
পুলিশের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ অনলাইন অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন তারা।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এস আই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। গত শুক্রবার ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা