প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
নাঙ্গলকোটে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবারও দেখা দিয়েছে চরম হতাশাজনক চিত্র। চলতি বছর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
গত সোমবার সকালে সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় হতে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের তথ্য এ চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
ফলাফল অনুযায়ী, শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। একইভাবে দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। এ প্রতিষ্ঠানটিরও পাসের হার ০ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, নাঙ্গলকোটে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।
অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় ৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬ জন, পাসের হার ৬৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
এবারের ফলাফলে দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কেন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি; এর পেছনে শিক্ষার মান, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি কতটা কার্যকর ছিল-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নাঙ্গলকোট উপজেলার ইসলামপুর বিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে পরপর দুই বছর উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, শুধু ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানকে দায়ী না করে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিং ও বিশেষ পাঠদান কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা