প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যার মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে মো. নাঈম শেখ (১৫) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দিয়ে তার চালিত ইজিবাইক ছিনতাই করার অপরাধে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। দায়ের করা এ মামলার অপর এক ধারায় তাদের তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দন্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তি দুটি ধারার দেওয়া এ রায়ের সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।
গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, নিহত ইজিবাইক চালক মো. নাঈম শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নাঈম শেখ ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে তার চালিত ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সারাদিন পর সন্ধ্যায়ও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার মুঠোফোনে ফোন করেন। সেটি বন্ধ পাওয়া গেলে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এতে নাঈমের কোনো খোঁজ মেলে না। পরদিন ২২ এপ্রিল ভোর ছয়টার দিকে লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রাম থেকে চোরাই ইজিবাইকসহ দুই চোরকে আটক করে পুলিশ। পরে শনাক্ত হয় সেটিই নাঈমের ইজিবাইক। ওই দুই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নাঈমকে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন এবং তাদের বাড়ির একপাশ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল বিকেলে নাঈমের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি ২০২২ সালের ২৪ মে আছমত, সাগর ও ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ্ মো. আজিজুর রহমান বলেন, আদালত ৩০২ ধারা (খুনের শাস্তি) তৎসহ পঠিতব্য ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন ও ৩৯৪ ধারায়(দস্যুতা করার সময় কোনো ব্যক্তিকে আঘাত বা জখম করলে) তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। তবে দুই সাজা একত্রে চলায় বড় সাজা যাবজ্জীবন ভোগ করলেই হবে।
তিনি বলেন, তবে এ মামলার অপর আসামী যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর, তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
পিপি বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায্য বিচার পেয়েছি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা